মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

উপজেলা ও ইউনিয়ন আইনগত সহায়তা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়

পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও।

www.pirganj.thakurgaon.gov.bd

 

 

উপজেলাও ইউনিয়ন আইনগত সহায়তা কমিটি গঠন বিষয়ককর্মশালা-এর মূল প্রবন্ধ

ভূমিকা:

    সরকার আর্থিকভাকে অসচ্ছল, সহায় সম্বলহীন এবংনানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার পেতে অসমর্থ বিচার প্রার্থী জনগণকে সরকারী খরচেআইনগত সহায়তা প্রদান করার জন্য ২০০০ সালের “আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা ২০০০” পাসকরে। এই আইনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সরকার “জাতীয় আইনগত সহায়তা  কার্যক্রমকে আরো গণমূখী ও জনবান্ধব করার জন্যইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রত্যেক জেলায় পৃথক লিগ্যাল এইড অফিসস্থাপন, লিগ্যাল এইড অফিস স্টাফ নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ প্রদান, আইনগত সহায়তা প্রার্থীরবার্ষিক গড় আয় ৩০,০০০/- টাকা হতে ৫০,০০০/- টাকায় উন্নীতকরণ, তৃণমূল পর্যায়েসচেতনমূলক কার্যক্রম গ্রহণসহ আরো অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারের এ সেবাধর্মীকার্যক্রমকে প্রান্তিক পর্যায়ে (উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটি গঠন, দায়িত্ব ও কার্যাবীলইত্যাদি) প্রবিধানমালা ২০১১” প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশিত হয়। উক্ত প্রবিধানমালারআলোকে সারা দেশে উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটি গঠন করার কার্যক্রম চলছে। এরই ধারাবাহিকতায়আজকের এ আয়োজন। কমিটির কার্যক্রমের সাদৃস্য বজায় রাখা এবং কমিটিকে আইনের উদ্দেশ্যেও দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত করা এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

আইনগত সহায়তা দানের ধারণা

গণপ্রজাতন্ত্রীবাংলাদেশের সংবিধান আমাদের সর্বোচ্চ আইন। সংবিধানের ১৯, ২৭ ও ৩১ নং অনুচ্ছেদমতেসকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান ও আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারকে প্রত্যেক নাগরিকেরমৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা হয়েছে। সকল নাগরিকের সুযোগের সমতা নিশ্চিত করারাষ্ট্রের কর্তব্য। কিন্তু যদি কোন ব্যক্তি আর্থিক সংকট বা দারিদ্রতার কারণে এঅধিকার হতে বঞ্চিত হয়, তাহলে সংবিধানের উক্ত অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য অর্থহীন হয়ে পড়ে।তাই যারা নি:স্ব, গরীব এবং উপায়হীন অর্থ্যাৎ যারা অর্থের অভাবে তাদের আইনগত অধিকারপ্রতিষ্ঠা করতে অসমর্থ, আদালতে তাহাদের পক্ষে দেওয়ানী, ফৌজদারী, পারিবারিক মামলাপরিচালনায় আইনী পদক্ষেপ গ্রহনের সহায়তা দেওয়া হয় তাই আইনগত সহায়তা।

 

বাংলাদেশে আইনগত সহায়তা দানের অবস্থান:

আইনগতসহায়তার ধারণাটি প্রাচীনকালে শুরু হলেও আমাদের দেশে কিছুদিন যাবৎ তা বাস্তবায়নেরপ্রচেষ্টা চলছে। ১৯০৮ সনের দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের ৩৩ আদেশ অনুযায়ী নি:স্ব সেব্যক্তি অর্থ্যাৎ যাদের পরিধেয় বস্ত্র ও মোকদ্দমার বিষয়বস্তু ব্যতিত ১০০/- টাকারঅধিক মূ্ল্যের কোন সম্পত্তি নেই। আইনটি অনেক পুরনো হওয়ায় এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটেএরূপ নি:স্ব ব্যক্তি বিরল বিবেচনা করে সরকার ২০০৬ সালেThe code of civil procedur নি:স্ব ব্যক্তি সংশোধনকরে ১০০/- টাকার স্থলে ৫,০০০/- টাকা নির্ধারণ করেছেন। এ সংশোধন কাঙ্খিত উদ্দেশ্যপূরণে সক্ষম হয়নি। কারণ কোন ব্যক্তি নি:স্ব মর্মে প্রতীয়মান হলে তিনি শুধুমাত্রকোর্ট ফি প্রদাণ হতে অব্যতিহত পান। মামলা পরিচালনার আরোও আনুষাঙ্গিক খরচ যেমন আরজী প্রস্তুতের খরচ, সমন নোটিশ জারীর খরচ, সাক্ষীর খরচ, আইনজীবী নিয়োগের খরচ সংক্রান্ত সুবিধা নি:স্ব  প্রার্থীরা উক্ত আইনের অধীনে পায় না। কিছুবেসরকারী সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান এ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসলেও জনবহুলএ দেশে অনুরূপ পদক্ষেপ পর্যাপ্ত ছিল না। ফলে সরকারী পর্যায় হতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগ্রহনের বিষয়টি সর্ব মহল আবেদন পত্রের মাধ্যমে দরখাস্ত করতে হতো। পূর্বের রেজুলেশনবর্ণিত বিধান পুর্ণাঙ্গ না হওয়ায় ১৯ শে মার্চ ১৯৯৭ খ্রি: তারিখে ৭৪ নং রেজুলেশনজারী করে জাতীয় আইনগত সহায়তা কমিটি গঠন করা হয়। ১৯৯৭ সালে গৃহিত রেজুলেশনটি ওপুর্ণাঙ্গ বিবেচনা না হওয়ায় আইনগত সহায়তা প্রদানের কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিকপুর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ “আইনগত সহায়তা প্রদান আইন ২০০০” পাস করেন। আইনটির মুখবন্ধে বলা হয় আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন ও নানাবিধআর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচার প্রার্থী জনগণকে আইনগত সহায়তাপ্রদানকল্পে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

পরেউক্ত আইনের ৭ ধারায় বিধান অনুযায়ী ২৪শে মে ২০০১ খ্রি: তারিখে আইনগত সহায়তা প্রদাননীতিমালা এবং ২৪ ধারার বিধান মোতাবেক আইনগত সহায়তা প্রদান প্রবিধান মালা প্রণয়নকরা হয়। ২০০১ সনের নীতিমালা অনুযায়ী অস্বচ্ছল গণ্য ব্যক্তি বার্ষিক গড় আয় প্রায়৩.০০০/- টাকার উর্ধে ছিল না কিন্তু পরবর্তিতে আর্থ-সামাজিক অবস্থার কথা বিবেচনাকরে গত ২৩ জুন ২০১১ খ্রি: তারিখে অস্বচ্ছল ব্যক্তির বার্ষিক গড় আয় ৫০,০০০/-(পঞ্চাশহাজার) টাকায় উন্নীত করা হয়েছে এবং অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বার্ষিক গড় আয়৭৫,০০০/-(পচাত্তোর হাজার) টাকায় উন্নীত করা হয়। পরবর্তিতে আবারও অস্বচ্ছল ব্যক্তিরবার্ষিক আয় গড় ১,০০,০০০/-(এক লক্ষ) এবং অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার বার্ষিক গড় আয়১,৫০,০০০/-(এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা পর্যন্ত উন্নীত করা হয়েছে।

সরকারী খরচে যারা আইনগত সহায়তা পাবেন:

ক. অসচ্ছল বা আর্থিকভাবেঅস্বচ্ছল ব্যক্তি যাহার বার্ষিক গড় আয় সুপ্রীম কোর্টে আইনগত  সহায়তা প্রদানেরক্ষেত্রে ১,৫০,০০০/- (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা এবং

         অন্যান্য আদালতের ক্ষেত্রে১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকার উর্ধে নয়।

খ. কর্মে অক্ষম আংশিককর্মক্ষম, কর্মহীন কোন ব্যক্তি;

গ. বাৎসরিক ১,৫০,০০০/(একলক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকার উর্ধে আয় করতে অক্ষম কোন মুক্তিযোদ্ধা;

ঘ. কোন শ্রমিক যাহারবার্ষিক গড় আয় ১,০০,০০০/-( এক লক্ষ) টাকার উর্ধে নয়।

ঙ. কোন শিশু;

চ. মানব পাচারের শিকারকোন ব্যক্তি;

ছ. শারীরিক, মানসিক এবংযৌন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশু;

জ. নিরাশ্রয় ব্যক্তি বাভবঘুরে;

ঝ. ক্ষুদ্র জাতিস্বত্ত্বাবা নৃ-গোষ্ঠি সম্প্রদায়ের ব্যক্তি;

ঞ.পারিবারিকসহিংসতার শিকার বা সহিংসতার ঝুকিতে রহিয়াছে এইরূপ কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি;

ট. বয়স্ক ভাতা পাইতেছেনএইরূপ কোন ব্যক্তি;

ঠ. ভিজিডি কার্ডধারী কোনদু:স্থ মাতা;

ড. দুর্বিত্ত কর্তৃক এডিসদগ্ধ নারী বা শিশু;

ঢ. আদর্শগ্রামে গৃহ বাভূমি বরাদ্দপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি;

ণ. অস্বচ্ছল বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত এবং দু:স্থ মহিলা;

ত. প্রতিবন্ধী ব্যক্তি;

থ.আর্থিকঅসচ্ছলতার কারণে আদালতে অধিকার প্রতিষ্ঠা বা আত্মপক্ষ সমর্থন করিতে  অসমর্থ ব্যক্তি:

দ. বিনা বিচারে আটক এমন কোন ব্যক্তি যিনি আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল;

ধ. আদালত কর্তৃক আর্থিকভাবে অসহায় বা অস্বচ্ছল বলিয়া বিবেচিত ব্যক্তি;

ন. জেল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আর্থিকভাবে অসহায় বা অস্বচ্ছল বলিয়া সুপারিশকৃত বা বিবেচিত কোন ব্যক্তি এবং

প. আইনগত সহায়তা প্রদান আইন ২০০০ এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সংস্থা কর্তৃক সময় সময় চিহ্নিত আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল সহায় সম্বলহীন, নানাবিধ আর্থ-সামাজিক এবং প্রাকৃতিক সূর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কোন ব্যক্তি যিনি আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে স্বীয় অধিকার প্রতিষ্ঠা বা মামলা পরিচালনায় অসমর্থ।

 

কি ধরণের সুবিধা পাবেন

 

দেওয়ানী, ফৌজদারী, পারিবারিক মামলাসহ প্রায় সকল ধরণের মামলায় আইনগত সহায়তা করা হয়;

লিগ্যাল এইডের মামলার ডিক্রি ও রায়ের নকল বিনামূল্যে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়;

আইনগত সুবিধা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা হয়;

জরুরী প্রয়োজনে আইনগত পরামর্শ প্রদান করা হয়’

লিগ্যাল এইডের প্রয়োজনে অন্যান্য আনুসাঙ্গিক কাজ করা হয়।

 

কি ভাবে পাবেন?

 

সরকারী খরচে আইনগত সহায়তা পাবার জন্য নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করতে হয়।

আবেদন নিম্নোক্ত স্থানে পাওয়া যাবে:

 জেলা জর্জ কোর্টে অবস্থিত “লিগ্যাল এইড অফিস”

জেলখানা বা কারাগারের কর্মকর্তাদের নিকট;

জেলা আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়;

জাতীয় মহিলা সংস্থা জেলা ও উপজেলা কার্যালয়।

 

আবেদনপত্র দাখিল করার প্রক্রিয়া

 

দরখাস্তকারী নিজে বা তার মামলা তদারককারী বা তদ্বিরকারী লিগ্যাল এইড অফিসে সরাসরি আবেদন পত্র জমা দিতে পারেন বা দাখিল করতে পারেন। তাছাড়া কারাগার কর্তৃপক্ষ, ইউনিয়ন/পৌরসভার চেয়ারম্যান, মেম্বার, কমিশনার, সমাজসেবা কর্মকর্তা বা বিভিন্ন এনজিও কর্মকর্তাদের মাধ্যমেও আইনগত সহায়তার আবেদন পত্র লিগ্যাল এইড অফিসে পাঠানো যায়।

 

জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা

 

আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর অধীনে “জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মাননীয় মন্ত্রীকে চেয়ারম্যান করে গঠিত ১৯ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় পরিচালনা বোর্ড দ্বারা এ সংস্থা পরিচালিত হয়। জাতীয় পর্যায়ে আইনগত সহায়তা (লিগ্যাল এইড) প্রদানের নীতিমালা প্রণয়নসহ এই সংস্থা জেলা আইনগত সহায়তা প্রদান কমিটির কার্যাবীল তদারক ও নিয়ন্ত্রণ করে। আইনগত সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এই সংস্থা নিয়মিতভাবে জেলা আইনগত সহায়তা কমিটির তহবিলে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। এ সংস্থার প্রধান কার্যালয় ঢাকায় অবস্থিত। নিম্নোক্ত সদস্যগণ নিয়ে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা’র পরিচালনা বোর্ড গঠিত হয়-

·        আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী, যিনি-এর চেয়ারম্যান ;

·        জাতীয় সংসদের স্পীকার কর্তৃক মনোনীত দুইজন সংসদ সদস্য, যাদের মধ্যে একজন সরকার দলীয়, অন্যজন বিরোধী দলীয় হবেন;

·        বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল;

·        সচিব, আইন ও বিচার বিভাগ; আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়;

·        সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়;

·        সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়;

·        মহা-পুলিশ পরিদর্শক;

·        মহা- কারা পরিদর্শক;

·        ভাইস-চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল;

·        সভাপতি, সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবি সমিতি;

·        চেয়ারম্যান, জাতীয় মহিলা সংস্থা;

·        প্রত্যেকটি জেলায় কার্যক্রম রয়েছে এরূপ প্রতিষ্ঠিত আইন ও মানবাধিকার সম্পর্কিত বেসরকারী সংস্থা হতে সরকার কর্তৃক মনোনীত তিন জন

           প্রতিনিধি;

·        পরিচালক, যিনি এর সদস্য সচিব হবেন;

 

 

জাতীয় পরিচালকা বোর্ডের কাজ

 

* জাতীয়ভাবে আইনগত সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন;

* জেলা কমিটিতে আইন সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অর্থ বরাদ্দকরণ;

* আইন সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতার জন্য প্রচার প্রচারণা চালানো;

* আইনগত সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে শিক্ষা ও গবেষণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা;

* জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা’র কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ;

 

 

জেলা আইনগত সহায়তা কমিটির গঠন

 

আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ -এর মাধ্যমে অসহায় ও দরিদ্র জনগণকে সরকারী খরচে আইনগত সহায়তা প্রদানের জন্য সংস্থার অধীনে দেশের ৬৪ টি জেলায় “জেলা আইনগত সহায়তা প্রদান কমিটি”রয়েছে। এ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে সংশ্লিষ্ট জেলা মাননীয় জেলা ও দায়রা জজ এবং সদস্য সচিব হিসেবে জেলা আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করেন। জেলা আইনগত সহায়তা কমিটি’র সদস্যগণ হচ্ছেন-

 

জেলা দায়রা জজ -চেয়ারম্যান;

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট;

চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা তৎকর্তৃক মনোনীত অন্যূন অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

জেলা পুলিশ সুপার বা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার;

জেলা সুপারিনটেনডেন্ট;

জেলা সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা এবং তথ্য কর্মকর্তা;

জাতীয় মহিলা সংস্থার জেলা কমিটির চেয়ারম্যান;

জেলা আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর;

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি;

সরকারি আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর;

মহানগর এলাকার ক্ষেত্রে মহানগর দায়রা জজ, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও মহানগর পিপি;

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর;

জেলার একজন বেসরকারি কারাগার পরিদর্শক;

জেলার বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার (এনজিও) একজন প্রতিনিধি;

সরকার কর্তৃক মনোনীত সংশ্লিষ্ট জেলার পৌরসভার একজন মেয়র, একজন উপজেলা চেয়ারম্যান এবং একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি;

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক- সদস্য সচিব।

 

জেলা কমিটির কাজ

 

আইনগত সহায়তা প্রাপ্তির আবেদন গ্রহণ;

আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী নিযুক্তকরণ;

জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচার প্রচারণা চালানো;

উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটি কর্তৃক প্রেরিত দরখাস্ত বা সুপরিশ বিবেচনা করে আইনগত সহায়তা প্রদান করা;

যে কোন আইনগত পরামর্শ প্রদান।

 

উপজেলা কমিটির গঠন

 

প্রান্তিক পর্যায়ে সরকারি আইনগত সহায়তা কার্যক্রম পৌছে দেয়ার জন্য আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ -এর ১২ ধারায় জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও তা বাস্তবে কার্যকর করা হয়নি। ইতোপূর্বে বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতার অভাবে অসহায় ও দরিদ্র জনগণ সরকারি লিগ্যাল এইড ব্যবস্থার সুফল ভোগ করতে পারছে না। এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি লিগ্যাল এইড ব্যবস্থায় সাধারণ জনগণের অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে লিগ্যাল এইড কমিটি গঠনের প্রস্তাব গ্রহন করে। সংস্থার পরিচালনা বোর্ডের ২৪ তম সভায় উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটির গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১১ খ্রি: গেজেট “জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা (উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটি গঠন, দায়িত্ব ও কার্যাবলী ইত্যাদি) প্রবিধানমালা, ২০১১”প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশিত হয়।

 

“জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা (উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটি গঠন, দায়িত্ব ও কার্যাবলী ইত্যাদি) প্রবিধানমালা, ২০১১”-এর প্রবিধান অনুযায়ী নিম্নোক্ত ১৫ জন সদস্যদের নিয়ে উপজেলা কমিটি গঠিত হবে।

 

উপজেলা চেয়ারম্যান, যিনি কমিটির চেয়ারম্যান;

উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান (মহিলা);

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা;

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা;

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা;

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা;

থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা;

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা;

উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা;

জাতীয় মহিলা সংস্থার উপজেলা কমিটির চেয়ারম্যান;

উপজেলা কমিটির চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণের মধ্য হতে একজন প্রতিনিধি;

উপজেলা কমিটির চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের সদস্যগণের মধ্য হতে একজন প্রতিনিধি;

উপজেলা কমিটির চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত সংশ্লিষ্ট উপজেলা সরকার অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন মহিলা শিক্ষক;

উপজেলা কমিটির চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত উপজেলার বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (যদি থাকে) -এর একজন প্রতিনিধি;

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, যিনি উহার সদস্য-সচিব হবেন।

 

এখানে উল্লেখ্য যে, চেয়ারম্যান, সদস্য সচিব এবং ২ হতে ১০ নং সদস্য পদাধিকার বলে উপজেলা কমিটির সদস্য। বাকী ১১-১৪ ক্রমিকের অর্থাৎ ৪ জন সদস্র উপজেলা কমিটির চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত হতে হবে এবং তারা ৩ বছরের জন্য মনোনয়ন লাভ করবেন। চেয়ারম্যান কর্তৃক ৪ জন সদস্য মনোনীত হওয়ার পর পূণাঙ্গ কমিটির তালিকা সংস্থা বরাবর প্রেরণ করবেন। উপজেলা কমিটির প্রতি ২ মাসে কমপক্ষে ১ টি সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং সভার ফোরামের জন্য মোট সদস্যের এক তৃতীয়াংশ অর্থাৎ কমপক্ষে ৫ জন সদস্যের প্রয়োজন হবে। তবে মূলতবী সভার ক্ষেত্রে কোন ফোরামের প্রয়োজন হবে না। 

 

ইউনিয়ন কমিটি গঠন

 

জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা (উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটির গঠন, দায়িত্ব ও কার্যাবলী ইত্যাদি) প্রবিধানমালা ২০১১ এর ৭ নং প্রবিধান অনুযায়ী নিম্নোক্ত সদস্যদের নিয়ে ইউনিয়ন কমিটি গঠিত হবে।

* ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, যিনি উহার চেয়ারম্যান;

ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের ৩ জন মহিলা সদস্য;

ইউনিয়ন কমিটির চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত ইউনিয়ন পরিষদের ৩ জন সদস্য;

ইউনিয়ন কমিটির চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সরকার অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন মহিলা শিক্ষক;

ইউনিয়ন কমিটির চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত আনসার ভিডিপি’র ১ জন মহিলা সদস্য;

ইউনিয়ন কমিটির চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত ইউনিয়নের মধ্যে অবস্থিত বাজার কমিটির সভাপতি বা ১ জন ব্যবসায়ী;

ইউনিয়ন কমিটির চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত ইউনিয়ন এলাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকে এমন বেসরকারি সংস্থা যদি থাকে, এর ১ জন প্রতিনিধি;

জাতীয় মহিলা সংস্থার জেলা কমিটির চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত ১ জন প্রতিনিধি;

ইউনিয়ন এলাকার মধ্যে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা;

ইউনিয়ন এলাকার মধ্যে কর্মরত ১ জন ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ভিজিটর;

ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, যিনি ইহার সদস্য-সচিব হবেন।

 

উল্লেখ্য যে, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত আসনের মহিলা মেম্বার ও ইউনিয়ন সচিব পদাধিকার বলে ইউনিয়ন কমিটির অন্তর্ভূক্ত। অবশিষ্ট সদস্যদের বেশির ভাগই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত হতে হবে। তবে ৮ নং সদস্য জাতীয় মহিলা সংস্থার জেলা কমিটির চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত হবে। তারা ৩ বছরের জন্য মনোনীত লাভ করবেন। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা সংস্থা বরাবর প্রেরণ করবেন। ইউনিয়ন কমিটির প্রতি ২ মাসে কমপক্ষে ১ টি সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং সভার ফোরামের জন্য মোট সদস্যের এক তৃতীয়াংশ সদস্যের প্রয়োজন হবে। তবে মূলতবী সভার ক্ষেত্রে কোন ফোরামের প্রয়োজন হবে না।

 

উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটির কাজ

 

সংস্থা কর্তৃক নিরূপিত যোগ্যতা ও প্রার্থীত নীতিমালা অনুসারে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচার প্রার্থীগণের আবেদন সংগ্রহ বা গ্রহণ এবং তা দ্রূত জেরা কমিটির নিকট প্রেরণ।;

আইনগত সহায়তা প্রদান সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ;

বোর্ড, সংস্থা বা জেলা কমিটি কর্তৃক অর্পিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন;

উপরোক্ত দায়িত্ব ও কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় যে কোন কাজ।

 

এক নজরে ঠাকুরগাঁও জেলার আইনগত সহায়তা প্রদান কমিটির কাজের অগ্রগতি

আইনগত সহায়তা প্রাপ্ত মামলার সর্বশেষ পরিসংখ্যান

সময়কাল: ২০০০-২০১৩ ইং সাল পর্যন্ত

 

 

আইনগত সহায়তা প্রদানকৃত মামলার সংখ্যা

নিষ্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যা

বিচারাধীন মামলার সংখ্যা

 

দেওয়ানী

ফৌজদারী

পারিবারিক

মোট

দেওয়ানী

ফৌজদারী

পারিবারিক

মোট

দেওয়ানী

ফৌজদারী

পারিবারিক

মোট

১৩০

৩৫৫

১৪৭

৬৩২

৮৯

২০১

৮৮

৩৭৮

৪১

১৫৪

৫৯

২৫৪

 

 

 

২০১৩ ইং সালে ফৌজদারী ১২ টি এবং পারিবারিক ৩ টি মামলা নিষ্পত্তি হয়।

 

 


 

 

 

 

 

 

 

সংযুক্তি

Law Support .doc Law Support .doc